শিরোনাম
আমাদের বাংলা ডেস্ক : | ০৭:৪৯ পিএম, ২০২৬-০৮-৩০
বেঞ্জামিন রফিক:
ফ্যাসিস্টের দোসর হিসেবে সীমাহীন দূর্নীতি, কমিশন বাণিজ্য ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কাজভাগাভাগিতে রেকর্ড করা বিআইডব্লিউটিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক এস এম আশরাফুজ্জামান এখনো দোর্দন্ড প্রতাপে ছড়ি ঘুড়িয়ে তার অপরাধ কর্মকান্ড অব্যাহত রেখেছেন মর্মে গুরুতরো খবর পাওয়া গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানিয়েছে,দেশ স্বৈরশাসক মুক্ত হলেও বিআইডব্লিউটিএ’তে ফ্যাসিস্টের প্রেতাত্মা দুর্নীতিবাজ এএসএম আশরাফুজ্জামান সস্ত্রীক গোটা প্রতিষ্ঠানটিকে দূর্নীতির সোনার খনিতে পরিণত করে অভিনব কায়দায় তাদের হরিলুট চালিয়ে যাচ্ছেন।কর্মচারীদের সাথে খারাপ আচরণ হতে শুরু করে সরকারী অর্থ লোপাটসহ এমন কোন দূর্নীতি নেই যা তিনি করেননি।
এক সময় এস এম আশরাফুজ্জামানের অত্যন্ত ঘনিষ্ট এবং পরে দুরত্ব সৃষ্টি হওয়া এক ভুক্তভোগীসুত্র জানিয়েছে, সম্পদ গোপন ও ভুয়া তথ্য প্রদান করছেন রাষ্ট্রকে সম্পদের বিবরণে ভুয়া ও ভুল তথ্য দিয়েছেন এবং প্রকৃত সম্পদের বিবরণ দেন নাই! পরিবারের সদস্যদের নামে - অপরাজিতা ৩২/বি/১, ৩২/বি/ই মায়াকানন ফ্লাট, বাসাবো ৭ তলা বাড়ি , আলিশান প্রাসাদ ফ্লাট, ৩৩/বি এবং ৩৩/সি বেনামে আহমেদ বাগে কয়েকটি ফ্লাট । রাজধানীর শান্তি নগরে আলিশান ফ্লাট কিনে বসবাস করছেন। বেনামে সম্পদ কিনেছেন ঢাকা ও এর আশেপাশে বিপুল সম্পত্তি,মোহাম্মদপুর,বসিলা,ধানমন্ডি, ফতুল্লা, কেরানীগঞ্জ, রূপগঞ্জ, পূর্বাচল,কালীগঞ্জ,সাভার, আশুলিয়া, প্লট কিনেছেন। বাড়ি করেছেন বাসাবো,সবুজবাগ, মুগদামানডায়। তার জন্মস্থান কুষ্টিয়াতেও পরিবারের নামে বিপুল পরিমান সম্পত্তি কিনেছেন।
এ এস এম আশরাফুজ্জামান রয়েছে একটি শক্তিশালী সরকার বিরধী ঠিকাদার সিন্ডিকেট। আওয়ামী আমলে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় অবৈধ ভাবে নিয়োগ পাওয়া এ এস এম আশরাফুজ্জামান মনে প্রাণে বর্তমান সরকার কে ঘৃণা করে। আওয়ামী বিরোধী লোক দেখলেই তার গাঁ জ্বলে। পক্ষান্তরে নিজেকে জামাত, বি এন পি র ঘরানার দাবি করে। জালিয়াতি করে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি পাওয়া এ এস এম আশরাফুজ্জামান এখন জামাত,বি এন পি সাজতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। সুত্রমতে, বিআইডব্লিউটিএ তে বি এন পি, জামাত বিরোধী প্রকৌশলীদের নিয়ে যে সিন্ডিকেট এ এস এম আশরাফুজ্জামান তার অন্যতম –এমনটাই জানিয়েছে একাধিক সুত্র।
একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তার রয়েছে নিজস্ব ক্যাশিয়ার যার মাধ্যমে সে বড় বড় টেন্ডার গুলো নেগসিয়েট করায়। নিদ্রিষট কমিশন ছাড়া তিনি কোন কাজ করেন না। অনুসরণ করে বের হয়ে এসেছে তার থলের ভেতর লুকিয়ে থাকা ভংয়কর হিংস্র কলো রংয়ের বিড়াল। আর একটা মজার বিষয় হলো গণমাধ্যমকে দেখলে তিনি এড়িয়ে চলেন,তিনি যেহেতু নির্দিষ্ট কমিশন ছাড়া কাজ করেন না তাই তিনি নিজেকে ধরাছোঁয়ার বাইরে রাখেন এমন অভিযোগ সাধারণ ঠিকাদারদের। গত অর্থ বছরের শেষের দিকে তিনি তার ১৫%-২৫% লভ্যাংশের অধেক! কমিশনের টাকা আদায়ের জন্য উঠে পরে লাগেন।প্রকল্প এর কাজ শেষ না করেই পুরো বিল উঠিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ও আাছে এ এস এম আশরাফুজ্জামান এর বিরুদ্ধে। কাজ না করে বিল উত্তোলনের এ টাকা তার সিন্ডিকেটের সদস্যদের সাথে ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছে। আরো জানা গেছে এ এস এম আশরাফুজ্জামান অফিসের বাইরে তার ঘুষ , কমিশন বানিজ্য চালিয়ে যেতে খুব স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন, একাধিক সূত্র তা নিশ্চিত করেছে। এ এস এম আশরাফুজ্জামান এর ঘুষের, অনিয়মের, দুর্নীতির ফিরিস্তি অনেক লম্বা ও অত্যন্ত ঘৃণার। আওয়ামী লীগের মন্ত্রী, এমপি, ও এপিএসদের ম্যানেজ করে হাতিয়ে নিয়েছেন সরকারি অর্থ। তিনি মূলত তার সিন্ডিকেটের ঠিকাদারদের দিয়ে কাজ করিয়ে থাকেন।অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিরোধী ঠিকাদারা তার অত্যন্ত আস্থাভাজন। সাবেক নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী ও তার এপিএস আ ন ম আহামুদুল হক বাসারের অত্যন্ত আস্থাভাজন ছিলেন।এএস এম আশরাফুজ্জামান এর চেয়ারে বসতো আ ন ম আহামুদুল হক বাসার - বসে ফেনসিডিল ও মদের আসর বসাতো। এভাবে একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে বিআইডব্লিউটিএ এর এই দুর্নীতিবাজ কমকর্তা ।
৫ ই আগষ্ট স্বৈরশাসকের পতন হলেও দুর্নীতিবাজ এই এ এস এম আশরাফুজ্জামান চাকরি বহাল আছে! তার তো জেলে থাকার কথা কারণ সে স্বৈরশাসকের সহযোগী। এএস এম আশ্রাফুরজামান একটি নির্দিষ্ট সিন্ডিকেটের সক্রিয় সদস্য। বিআইডব্লিউটিএ তে এতটাই ক্ষমতাধর হয়ে উঠেছিলেন যে ধরাকে সরাজ্ঞান করছেন। তার কক্ষে সারাদিন সিন্ডিকেটের সদস্যরা বসে থাকে এবং সে তাদের মাধ্যমে সাধারণ ঠিকাদারদের বিভিন্ন সময় হুমকি ধমকি, এমকি অপমান অপদস্ত সহ সন্ত্রাসী বাহিনী লেলিয়ে দেয়। এতে রাষ্ট্রের যেমন ক্ষতি হয় তেমনি সাধারণ মানুষ ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই এএস এম আশরাফুজ্জামান - অবৈধ অর্থ ও সম্পদ এতটাই বেশি অর্জন করেছেন যে কোন আইন ও নীতিমালা স্পর্শ করতে পারে না। দুর্নীতি দমন কমিশন কে পর্যন্ত কেয়ার করে না । তার কথা একটাই টাকা থাকলে সব ম্যানেজ করা যায়। হাজার হাজার কোটি টাকার টেন্ডার নিয়ে এ এস এম আশরাফুজ্জামান সাপ লুডু খেলছে। এখনোও কমিশনের বিনিময়ে তার সিন্ডিকেটের সদস্যদের কাজ দিতে তৎপর। উপদেষ্টা ও সচিব এখনই কঠোর না হলে সাধারণ ঠিকাদারগণকে বঞ্চিত হতে হবে। (প্রকল্পের নাম: Development of Jetties and Infrastructure at Mirsarai & Sandwip at Chattogram, Subrang and Jaliar Dwip at Teknaf and Sonadia Dwip at Cox’s Bazar প্রকল্প পরিচালক (PD):এ.এস.এম আশরাফুজ্জামান) সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জানতে আশরাফুজ্জামান এর মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও কোন উত্তর পাওয়া যায় নি। মেইল ও পাঠানো হয়েছে কিন্তু কোন উত্তর আসে নি। কিসের ক্ষমতায় এবং কার অনুকূলে তিনি এতটা ক্ষমতাধর! এ প্রশ্নের খবর খুঁজতে গিয়ে পাওয়া গেছে পিলে চমকানো তথ্য। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় নয়ছয়ের সুযোগ বেশি তাই তিনি এ সুযোগ টা হাতছাড়া ভুলেও করেননি সরকারের কোষাগারে বাজেট না থাকলেও তিনি টেন্ডার আহ্বান করতে একটুকুও দিধা বোধ করেনি হাজার হাজার/শত শত কোটি টাকার টেন্ডার দিয়েছেন।
সুত্রমতে, তিনি এতবেশি ধুরনদর চালাক যে নিজস্ব বা যে বেশি কমিশন দেয় তাকেই রেইট কোড দেয় কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে। একদিকে রাষ্ট্র হারাচ্ছে তার অর্থ অন্যদিকে হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট ওয়াকিবহাল মহল ও ভুক্তভোগীদের মতে, এই এ এস এম আশরাফুজ্জামানকে আইনের আওতায় এনে তদন্তপূর্বক কঠোর শাস্তি সহ তার লুটপাটকৃত স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি এবং অর্থ বাজেয়াপ্ত সময়ের দাবী। বি:দ্র: ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রেতাত্মা বিআইডব্লিউটিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক এএসএম আশরাফুজ্জামানের সম্পর্কে অনুসন্ধানী খবর পেতে চোখ রাখুন পরবর্তী পর্বে
আবদুল্লাহ মজুমদার : : জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে স্মরণ নয়, তাঁর সাহিত্য, দর্শন ও মানবতাবাদী চেতনা...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে স্মরণ নয়, তাঁর সাহিত্য, দর্শন ও মানবতাবাদী চেতনা...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যার ঘটনায় করা একটি মামলার আসামি চট্টগ্রামের...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : বোয়ালখালীতে রেললাইন ঘেঁষে পার্কিং করে রাখা একটি সিএনজিচালিত টেম্পোর সঙ্গে কক্সবাজারগামী পর্যটক...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : মাগুরা প্রতিনিধি : মাগুরার শালিখা উপজেলার আড়পাড়া বাজারসংলগ্ন ফটকি নদীর ওপর ১৬ কোটি টাকার বেশি ব্য...বিস্তারিত
মোঃ জহির উদ্দিন, কক্সবাজার : : কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রাষ্ট্রহীন, বিচ্ছিন্ন ও হতাশ একটি প্রজন্ম বেড়ে উঠছে, যা উগ্রবাদ এব...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited